লন্ডন থেকে মতিয়ার চৌধুরীঃ  যুদ্ধাপরাধের দায়ে বাংলাদেশে মৃত্যুদন্ড পাওয়া  ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সাবেক আলবদর কমান্ডার চৌধুরী মঈন উদ্দিন  ক্ষতিপূরণ চেয়ে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেলের বিরুদ্ধে  আদালতে মামলা করেছে।

তাকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আখ্যায়িত করে একটি রিপোর্ট টুইটারে শেয়ার করার জন্য এই মামলায় ৬০ হাজার পাউন্ড ক্ষতিপূরন চেয়ে যুদ্ধাপরাধী মইনুদ্দিন মামলা করে। এ খবরটি নিশ্চিত করেছে  ব্রিটেনের অনলাইন ডেইলি মেইল।

তার মামলায় উল্লেখ করা হয়  গত বছর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি রিপোর্টে মঈন উদ্দিনের মানহানি করা হয়েছে । বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে জাতির বিরুদ্ধে হত্যাকান্ডে তিনি জড়িত ছিলেন বলে আদালতে প্রমাণিত।

কিন্তু বাংলাদেশের আদালতে তার যুদ্ধাপরাদের অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ আদালত তাঁকে ফাসির দন্ড দেয়, এবং ইন্টারপোলে তার বিরুদ্ধের ওয়ারেন্ট ইস্যু করে। এর পর আনুষ্টানিক ভাবে এই যুদ্ধাপরাধীকে ফিরিয়ে নিতে ব্রিটিশ সরকারকে অনুরোধ পাঠায় বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশ সরকার ব্রিটেন থেকে এই ভয়ংকর অপরাধিকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে তার সাজা কারযকর করতে চাইছে, কিন্তু তার দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় বিভিন্ন আইনী জটিলতায় তা সম্ভব হচ্ছেনা।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার ব্রিটিশ সরকারের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।  তার পরেও  এই অপরাধী অব্যাহতভাবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। চৌধুরী মইনুদ্দিন  যে মামলা করছেন তাতে বলা হচ্ছে, কমিশন ফর কাউন্টারিং এক্সট্রিমিজমের ডকুমেন্ট ‘চ্যালেঞ্জিং হেটফুল এক্সট্রিমিজম’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টুইটার একাউন্টে শেয়ার করা হয়েছে।

এই একাউন্টের অনুসারী প্রায় ১০ লাখ।এই টুইটে রিটুইট করেছেন বৃটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল, বিবিসির সাংবাদিক মিশাল হুসেইন, মানবাধিকার বিষয়ক ক্যাম্পেইনার পিটার ট্যাটচেল।

ওই রিপোর্টে চৌধুরী মঈন উদ্দিনকে অভিহিত করা হয়েছে ভয়াবহ সহিংস অপরাধের জন্য দায়ী হিসেবে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ। দেশের বুদ্ধিজীবদের হত্যা বেছে বেছে বাংলাদেশের হিন্দু নাগরিকদের হত্যার অভিযোগ।

মুসলিম কাউন্সিল অব গ্রেট বৃটেন প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করেছিলেন চৌধুরী মঈন উদ্দিন। তিনি ইস্ট লন্ডন মসজিদের ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালে ২০০৩ সালে বৃটেনে প্রভাবশালী এক ব্যক্তির সঙ্গে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন।

নর্থ লন্ডনে বসবাসকারী মঈন উদ্দিন চার সন্তানের জনক। তিনি  বলেন জামায়াতে ইসলামির ব্রিটিশ শাখার কোনো নেতৃত্বের সঙ্গেও তার কোন যোগসূত্র নেই। জামায়াতে ইসলামীর কোনো সিনিয়র নেতা তিনি কখনও ছিলেন না।চৌধুরী মইনুদ্দিনের ভাষ্য মতে সাত বছর আগে তার অনুপস্থিতিতে মানবতা বিরোধী অপরাধে তাকে অভিযুক্ত করা হয়। বলা হয়, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি একটি মিলিশিয়ার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ১৮ বুদ্ধিজীবী হত্যায়।

এ অপরাধে তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ফাঁসির রায় দেয়। প্রকৃত পক্ষে বাংলাদেশের সরকার থেকে তাকে সুযোগ দেয়া সত্বেও তিনি আদালতে হজির হননি।

এবং ১৯৭১ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত অধুনালুপ্ত পুরবদেশ প্রকিায় কাজ করার সময় আলবদর বাহিনীতে যোগ দেন, এবং ছাত্রাবস্থায় তিনি জামাতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা ছিলেন, ২০১২সালে মেইল অনলাইন সানডে রিপোর্ট করে    চৌধুরী মঈন উদ্দিন বৃটেনের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবায় একজন সিনিয়র হিসেবে কিভাবে  ভূমিকা রাখছেন,  তিনি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাভিত্তিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি।

এবং ১৯৭১ সালে বুদ্ধিজীবি হত্যার সাথে জড়িত। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আরো হত্যা, লুট ও রেইপ সহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।  চৌধুরী মঈন উদ্দিনের রিট গত মাসে হাইকোর্টে জমা দেয়া হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, চ্যালেঞ্জিং হেটফুল এক্সট্রিমিজম রিপোর্ট ইউরোপীয়ান প্রটেকশন রেগুলেশন লঙ্ঘন করেছে।

একই সঙ্গে তার ব্যক্তিগত তথ্য বেআইনিভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। ওই রিপোর্টটি প্রকৃতপক্ষে প্রকাশিত হয় গত বছর অক্টোবরে। কমিশন প্রাথমিকভাবে মঈন উদ্দিনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করার পর ২০ শে মার্চ পর্যন্ত তা সরকারের ওয়েবসাইটে ছিল। ডেইলি মেইল আরো লিখেছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর দেশ ছাড়েন মঈন উদ্দিন এবং বৃটেনে এসে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন পরে বৃটিশ নাগরিকত্ব পান।

তিনি দাবি করেছেন, প্রকাশিত ওই রিপোর্ট তাকে মারাত্মক হতাশাগ্রস্ত করেছে। বিব্রত করেছে। এই অভিযোগ প্রকাশের আগে তার সঙ্গে কমিশন যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে তার দাবি। তিনি আরো বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর আইনজীবীরা যখন তাকে লিখেছেন, তখন তিনি আরেক দফা দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ইন্ডিপেন্ডেন্ট কমিশন ফর কাউন্টার এক্সট্রিমিজম প্রকাশিত একটি রিপোর্টের সঙ্গে এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট। কমিশনের স্পন্সর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হলেও, আমরা এখন মন্তব্য করতে পারছি না যে, আইনি প্রক্রিয়া চলমান ।

এদিকে লন্ডনে প্রতিদিনই ব্রিটিশ বাংলাদেশিীরা তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি দাবী জানিয়ে আসছেন। এখানেই শেষ নয় বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে ১`৯৯৫ সালে ব্রটিশ মিডিয়া আইটিভি প্যানারমাতে একটি ডকুমেন্টারেী প্রচার করা হয়, তখন ওই ডকুমেন্টারীতে তার মানবতা বিরোধী অপরাধের সব তথ্য তুলে ধরা হয়।

ব্রিটেন একটি আইনের দেশ যে কউ কারো বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দায়ের করতে পারে। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রি তার বিষয়টি রিটুইট করে কোন অপরাধ করেননি। কেননা সে বাংলাদেরেশর আদালতে অপরাধি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কেউ আদালতে দোষী সাব্যস্থ হলে তাকে অপরাধি বলতে আইনী কোন বাধা নেই।

মইনুদ্দিন তার মামলায় ইউরোপীয়ান মানবাধিকার আইনের কিছু দিক তুলে ধরেছেন, এটি এখন আর দেখার বিষয় নয়, যেহেতু ব্রিটেন এখন আর ইউভুক্ত কোন দেশ নয়। ব্রিটিশ সরকারের কাছে প্রবাসী ব্রিটিশ-বাংলাদেশীরা দাবী তুলেছেন ব্রিটিশ সরকার যদি তাকে বাংলাদেশে ফেরত না পাঠায় ব্রিটেনের আইনে এখানে তার বিচার করা হউক।

এখানে উল্লেখ্য  ব্রিটিশ সরকার কোন ফাসির আসামীকে নিজ দেশে ফেরত দেয়না, এছাড়া চৌধুরী মইনুদ্দিন এখন একজন ব্রিটিশ নাগরিক, সুতরাং তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে কিছুটা আইনী জটিলতা রয়েছে।  ব্রিটিশ সরকার মইনুদ্দিনের ব্যাপারে আইনী দিকগুলো দেখছে।

তবে প্রবাসী বাংলাদেশীরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী প্রিথি প্যাটেলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। লন্ডনস্থ বাংলাদেশ মিশন বিষয়টি বাংলাদেশ সরকাকে অবিহিত করেছে।চৌধুরী মইনুদ্দিন জামাতের সাথে তার যোগাযোগ অস্বীকার করলে কি হবে, লন্ডনে তিনি প্রতিষ্টা করেন সামাজিক সংগঠন ইসলামিক ফোরাম অব ইউরোপ ( আইএফই) এই আইএঅফই‘র ব্যনারে বাংলাদেশ জামাতের কাজ চলে লন্ডনে।

শুধূ আইএফই নয় জামাতের লন্ডনে রয়েছে শতাধিক সামাজিক, সাংস্কুতিক এবং বচ্যারিটি সংগঠন, যারা এসব সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত সকলেই সাবেক ছাত্র শিবির এর সদস্য ও জামাতের অনুসারী।

By udaytv

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!