1. udaytv3420@gmail.com : editor :
শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন

বরগুনায় স্ত্রীকে অপহরণের দায়ে স্বামীর ২০ বছর জেল!

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৪২ Time View

বীরেন্দ্র কিশোর সরকার, বরগুনা ॥ প্রথম স্বামী জাকিরের অত্যাচারে সংসার ছেড়ে শাহ আলম নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন ফতিমা বেগম নামে বরগুনার এক নারী। তাদের নয় বছরের সংসারে রয়েছে দুটি সন্তানও। অথচ জাকিরের করা স্ত্রীকে অপহরণের মামলায় বর্তমান স্বামী শাহ আলমকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন বিচারিক আদালত। স্বামীকে কারামুক্ত করতে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন ফাতিমা। হাইকোর্টে করেছেন জামিন আবেদন।

হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের দ্বৈত বেঞ্চে এর শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রথম স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে ২০১২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তার পূর্বের স্বামী জাকির হোসেনকে তালাক দিয়ে ঘর ছাড়েন বরগুনার ফাতিমা। এর পর বিয়ে করেন শাহ আলমকে। বিয়ের নয় বছর ধরে সুখে শান্তিতেই ছিলেন তারা। এই দ¤পতির ৭ ও ৫ বছর বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে।

কিন্তু ২০১২ সালের ৫ মে স্ত্রীকে অপহরণের অভিযোগে ফাতিমার সাবেক স্বামী মামলা করেন শাহ আলমের বিরুদ্ধে। ওই মামলার বিচার চলছে নয় বছর ধরে। এরই মধ্যে একাধিকবার ফাতিমা আদালতে বলেছেন, দ্বিতীয় স্বামী শাহ আলম তাকে অপহরণ করেননি। কিন্তু তার কথায় কর্ণপাত করেনি কেউ। দীর্ঘ শুনানি শেষে অপহরণের দায়ে শাহ আলমকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেন আদালত।

এ ঘটনায় তাকে সহযোগিতার দায়ে আরও সাতজনকে ১৪ বছর করে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।
ফাতিমা জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন, আমাকে শাহ আলম অপহরণ করেনি। তাকে আমি স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছি। প্রথমে ২০০৭ সালে জাকিরের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। জাকিরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তাকে তালাক দিয়ে আমি শাহ আলমকে দ্বিতীয় বিয়ে করি। জাকির এখন আর আমার স্বামী নয়।

যাকে অপহরণ নিয়ে এত কাহিনী, তিনি জবানবন্দি দেয়ার পরও কেন এমন রায় এ প্রশ্নের উত্তরে আসামির আইনজীবীর অভিযোগ এ মামলায় বিচারিক মনোভাব দেখাননি বিচারক।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, অপহরণ মামলার মূল বিষয়বস্তু হলো ২২ ধারার জবানবন্দি। ২২ ধারার জবানবন্দিতে ভিকটিম কী বললেন, এটাই মূল আলোচ্য বিষয়।

ভিকটিমের বয়স ২৭ বছর, অর্থাৎ তিনি প্রাপ্তবয়স্ক। তিনি আদালতে বলেছেন, আমি অপহৃত হইনি। আমি স্বেচ্ছায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি। তাহলে সেখানে আর কিছু থাকার কথা না। এ মামলায় অনিবার্যভাবে খালাস দেয়া ছাড়া আর কোনো অপশনই থাকার কথা না বলেন এ আইনজীবী।

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ৫ মে তার স্ত্রী ফাতিমাকে (২৭) অপহরণ করা হয়েছে উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩০ ধারায় শাহ আলমসহ আট জনের বিরুদ্ধে বরগুনা উপজেলার পাথরঘাটা থানায় মামলা করেন মো. জাকির হোসেন।
এ ঘটনায় ফাতিমা বেগম বরগুনার পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ২২ ধারার জবানবন্দি দেন। ওই বছরের ৩০ আগস্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পাথরঘাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সাত্তার শাহ আলমসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এর পর ২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, বরগুনা এর বিচারক মো. হাফিজুর রহমান আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

এরপর রাষ্ট্রপক্ষ আটজন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করে এবং আসামি পক্ষ দুজন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করে। এর মধ্যে ভিকটিম ফাতিমা বেগম ১ নং সাফাই সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি পেশ করেন। মামলায় সাক্ষী ও যুক্তিতর্ক শেষে ২০২০ সালের ১৪ ডিসেম্বর বিচারক মো. হাফিজুর রহমান শাহ আলমকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন আদালত।

এছাড়া বাকি সাতজন আসামি প্রত্যেককে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও তিনমাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়।
এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে শাহ আলমের স্ত্রীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির আপিল দায়ের করেন। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মো. আরিফুর রহমান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
Uday tv @ ২০২০,সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।
error: Content is protected !!

Designed by: Sylhet Host BD